CSE-India


সিএসই ফ্যাক্টর বুক

ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচনা এবং বৃদ্ধি

একটি নীম গাছের নিচে একত্রিত হওয়া ১৮৩০ সালের সেই দিন থেকে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের সমধর্মিতা আজ অনেক পথ অতিক্রম করেছে। যদিও কলকাতা স্টক ব্রোকারদের জন্য বিখ্যাত আশ্রয়টি বর্তমানে উপস্থিত নেই। গত শতাব্দীর পাড়া সেই শিকড়ে আজ তাঁরা স্বয়ং আছেন শহর এবং অঞ্চলের গভীরে। উত্তর পূর্বাঞ্চলটি আজ দেশের পুঁজি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহন করেছে। কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জ তৃতীয় বৃহত্তম মূলধনী বাজার হিসাবে দেশে উদিত হয়েছে। আজ পূর্বাঞ্চলের বিনিয়োগকারীরা একেবারে পুরোভাগে রয়েছে।

ভারতের স্টক ব্রোকিং এর মূল উদ্ভব তখন থেকে শুরু হয় যখন শেয়ার, ঋণস্বীকারপত্র এবং বন্ড সম্পত্তি থেকে প্রতিনিধিত্ব এক ব্যক্তির থেকে অন্য এক ব্যক্তির কাছে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়। ভারতে লেনদেন এর আদিতম সিকিউরিটিজ রেকর্ডটি ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এর ঋণ সিকিউরিটিজ।

১৮৩০ সালে কলকাতায় ব্যবসার পরিমাণ অনুভবনীয় বৃদ্ধি পেয়েছিল। ১৮৩৬ সালের কলকাতায় “ইংলিশম্যান” ছিল ব্যাপক ভাবে প্রচারিত একটি পত্রিকা, যা থেকে জানা যায় যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ৪%, ৫%, এবং ৬% হিসেবে ঋণ এবং “ব্যাঙ্ক অফ বেঙ্গল” এর শেয়ারের দর পাশাপাশি একই রকম উচ্চ কিস্তি সম্পন্ন ছিল প্রতি ১০০ টাকার ক্ষেত্রে। তিন বছর পরে অর্থাৎ ১৮৩৯ সালে কলকাতায় খবরের কাগজে আরও কিছু উদ্ধৃতি প্রকাশিত হয় যেমন ইউনিওন ব্যাঙ্ক এর শেয়ার, আগ্রা ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কোম্পানি যেমন “বেঙ্গল বণ্ডেড ওয়ার হাউজ ডকিং কোম্পানি” এবং “স্টিম টাগ কোম্পানি”। ১৮৫০ সালে কোম্পানির আবির্ভাব আইন এবং যেটি ছিল সীমিত দায়বদ্ধতা থেকে নীতির পরবর্তী ভূমিকা যা স্টক এবং শেয়ার বিনিয়োগ কে জনপ্রিয় করেছিল।

যদিও ১৮৩৬ সাল থেকেই কলকাতায় স্টক দালালির কাজ শুরু হয়েছিল, তবু সে সময় দালালি পেশা যুক্ত সদস্যদের নির্দেশনার জন্য কোন “কোড অফ কন্ডাক্ট” ছিল না, কোন প্রকার জনসভার জন্য কোন নির্দিষ্ট স্থান ছিল না। তাদের কার্যকলাপের কেন্দ্র ছিল একটি নীম গাছ, নেতাজী সুভাষ রোডের উপর বর্তমানে যেখানে চার্টার্ড ব্যাঙ্ক অফিসটি অবস্থিত (এখন যার নাম স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড)। ১৯০৫ সালে চার্টার্ড ব্যাঙ্কের অফিসটি গড়ে ওঠা শুরু হলে দালালি কার্যকলাপের জন্য তাদের স্থানপরিবর্তন করতে হয়, সেই স্থানে বর্তমানে এলাহাবাদ ব্যাঙ্কটি অবস্থিত।

দালালদের কোন আশ্রয় স্থান ছিল না, খোলা আকাশের নিচে তাঁরা বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চালাতেন। এই প্রকার অসুবিধার জন্য দালালরা নিজেরাই নিজস্ব সংগঠন গড়ে তোলার কথা ভাবলেন এবং ১৯০৮ সালের মে মাসে ২ই নং চীনা বাজার স্ট্রীটে একটি সংসদ্ গঠিত হোল যার নাম দেওয়া হোল “ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ এ্যাসোসিয়েশন”।

১৯২৩ সালের ৭ই জুন সংসদটি একটি সীমিত দায় উদ্বেগ হিসাবে নথিভুক্ত হয় এবং যার অনুমোদিত মূলধন ছিল ৩ লক্ষ টাকা যা ৩০০ টি শেয়ারে বিভক্ত ছিল, প্রতিটি ১০০০ টাকা করে। ১৯৫৯ সালে তা পুনরায় ৪ টি শেয়ারে উপবিভাজন করা হয় প্রতিটি ২৫০ টাকা করে। ১৯৩৮ সালে সংসদের সুবর্ণ জয়ন্তী পালিত হয়, ১৯৬৮ সালে হীরক জয়ন্তী, ১৯৮৩ সালে প্লাটিনাম জয়ন্তী এবং ২০০৮ সালে শতবর্ষ পালিত হয়।

১৯২৮ সালে ৭ই লয়ানস রেঞ্জ স্ট্রিটে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের অফিসটি তৈরি করা হয় যা আজ ৮৩ বছর ধরে স্টক এক্সচেঞ্জ কার্যালয় হয়ে রয়েছে। তবে বর্তমানে সদস্যদের সংখ্যা আর ব্যবসার পরিমাণ বিপুল ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য জায়গার পরিমাণ অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই বৃহত্তর প্রাঙ্গন পাবার স্বার্থে ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন যাতে সদস্যদের তীব্র স্থান ঘাটতি সমস্যা নির্বাপিত হয়। ইতিমধ্যেই ইস্টার্ন মেট্রোপলিটান বাই-পাসে জমি অধিকৃত করে সেখানে একটি আধুনিক স্টক এক্সচেঞ্জ কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানে সদস্যদের অফিস ঘর ছাড়াও থাকবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্লিয়ারিং হাউজ, নিবন্ধন প্রভৃতি।

১৯০৮ সালে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য সংখ্যা ছিল ১৫০ জন। বর্তমানে বিভিন্ন কর্পোরেট ও প্রতিষ্ঠানিক সদস্য সংখ্যা মিলিয়ে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৯০০ জন। বর্তমানে ৩৫০০ –র বেশি কোম্পানি ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের সাথে যুক্ত। ১৯৯৭-৯৮ সালে এক্সচেঞ্জের বাত্সরিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১,৭৮,৭৭৯ কোটি টাকা। বিনিয়োগকারীদের দরকারী সেবা প্রদানের জন্য ১৯৮০ সালের ১৪ই এপ্রিল কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে “প্রাসঙ্গিক সিকিউরিটিজ চুক্তির ব্যবস্থা” আইনে স্থায়ী স্বীকৃতি মঞ্জুর হয়।

“বিশ্বের কাহিনীতে প্রতিটি মহান মানুষের সাফল্যের পেছনে থাকে প্রবল উদ্যমের নির্যাস” - রালফ ও য়া লডো এমারসন

“আমাদের গন্তব্য পথে চলা এখানেই শেষ হোক বা না হোক তাতে কোন আনন্দ বা দুঃখ নেই, কাজ –ই আমাদের আগামী দিনের কাছে নিয়ে যাবে” – ‘জীবনের একটি প্রার্থনা’, হেনরি ওয়ার্ডসওর্থ লংফেলো

১৯৯৭ সাল ছিল ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের গৌরবময় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাতে গতানুগতিক হস্তসাধিত বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে পরিবর্তন করে আনা হয় সম্পূর্ণ কম্পিউটার চালিত অনলাইন বাণিজ্যিক ও প্রতিবেদন পদ্ধতিতে এবং এর নামকরন করা হয় সি-স্টার (সিএসসি অনলাইন স্ক্রিন-বেসড ট্রেডিং এন্ড রিপোর্টং সিস্টেম)। ১৯৯৭ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি এর উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী জ্যোতি বসু। শুরুতে এটি ১০১ টি “বি” শাখার এর স্ক্রিপ নিয়ে চালু হয়েছিল। পরবর্তী কালে “বি” শাখার বাকি স্ক্রিপ চালু হয় ৭ই মার্চ থেকে এবং “অনুমোদিত শাখা” এর স্ক্রিপ গুলি (আনুমানিক ৩৫০০ টি) স্থানান্তরিত করা হয় সি-স্টার পদ্ধতিতে। পরিশেষে “এ” শাখার সমস্ত স্ক্রিপ সি-স্টার পদ্ধতিতে স্থানান্তরিত করা হয় এবং তা কার্যকারী হয় ৪ঠা এপ্রিল ১৯৯৭ তে।